You are currently viewing সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কি, অর্গানিক SEO , SEO এর গুরুত্ব এবং SEO এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায় ?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কি, অর্গানিক SEO , SEO এর গুরুত্ব এবং SEO এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায় ?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কি, অর্গানিক SEO , SEO এর গুরুত্ব এবং SEO এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায় ?

ডিজিটাল মার্কেটিং, আউট সোর্সিং বা ফ্রিলান্সিংয়ের সাথে যারা জড়িত আছেন তারা অবশ্যই SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শব্দটির সাথে পরিচিত। বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে প্রতিদিন অসংখ্য ফ্রিলান্সার SEO এর কাজ করে। বাংলাদেশের অসংখ্য নারী পুরুষ এই ধরনের কাজ করে টাকা আয় করছে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বিশাল একটি ক্ষেত্র যার সাথে অনেক বিষয় জড়িয়ে আছে। আমরা সেই বিষয় গুলোর ব্যাপারে জানব। প্রথমে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন হচ্ছে এমন একটি অর্গানিক বা ব্যয় মুক্ত পদ্ধতি যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিকের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং সেইসাথে আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার উভয়ই বাড়ানো হয়। কত দ্রুত এবং কীভাবে অনুসন্ধানকারীর ফলাফলটি সার্চ ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে দেখানো যেতে পারে এটি বেশ কয়েকটি অ্যালগোরোথমিক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে আর এই ফ্যাক্টর গুলোই SEO। SEO এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে অনুসন্ধানকারীর ফলাফলটি অনুসন্ধানের তালিকার শীর্ষে দেখানো যায় এবং ট্রাফিক বাড়াতে SEO এর ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বে অসংখ্য সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু সার্চ ইঞ্জিনগুলো হচ্ছে-

  • গুগল
  • মাইক্রোসফ্ট বিং
  • ইয়াহু
  • Baidu
  • টুইটার
  • ইয়ানডেক্স
  • Ask.com ইত্যাদি

তবে Seo শুধু মাত্র সার্চ ইঞ্জিন এর জন্যই ব্যবহার করা হয় তা নয় ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অ্যাপ স্টোরের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হইয়ে থাকে ।

অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ অর্গানিক SEO বা অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হচ্ছে গুগল, বিং এবং ইয়াহুর মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে অনুসন্ধানের শীর্ষ স্থান অর্জন করতে ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং কৌশলগুলোকে বোঝায় যা করতে কোন অর্থ ব্যয় করতে হয় না। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় অর্গানিক শব্দটির অর্থ হচ্ছে ব্যয় মুক্ত বা free of cost.

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্বঃ

আমরা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জেনেছি। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন marketing statregy এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলুন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  • দৃশ্যমানতা এবং র‍্যাংকিং: সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করা। যখন অনুসন্ধানকারী কিছু সন্ধান করেন তখন আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে শীর্ষে দেখানোর জন্য SEO করতে হয়। আর আপনার ওয়েবসাইটের visibility সরাসরি আপনার ranking সাথে সম্পর্কিত। আপনি অনুসন্ধান ইঞ্জিনের ফলাফলের পৃষ্ঠায় যত বেশি উপরে থাকবেন আপনার ওয়েবসাইটটি আগে দেখার এবং আপনার সাইটে ক্লিক করার সম্ভাবনা তত বেশি।, আপনার ranking যত বেশি এবং আপনার visibility তত বেশি হবে, আপনার SEO যত বেশি কার্যকর হবে।
  • ওয়েব ট্রাফিকঃ ওয়েব ট্র্যাফিক বাড়ানো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং আপনার visibility এবং ranking বৃদ্ধি পেলে ওয়েব ট্র্যাফিক বৃদ্ধি পাবে। এক মুহুর্তের জন্য এটি বিবেচনা করুন: অনুসন্ধানকারীদের মধ্যে প্রায় ৩৫% ট্রাফিক তালিকার প্রথম রেজাল্টে ক্লিক করে এবং প্রথম পাঁচটি তালিকা সমস্ত ক্লিকের ৭৫% এরও বেশি পায়। যদি আপনি কোনও সার্চ ইঞ্জিনের বেশি ট্রাফিক চান আপনাকে শীর্ষ পঞ্চম স্থানের মধ্যে থাকতে হবে এবং এক নম্বরে থাকলে আপনি সর্বোচ্চ ফলাফল পাবেন।
  • Authority: সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ধারণাটি তুলনামূলক ভাবে নতুন তবে এটি জন্য ক্রমশ সার্চ ইঞ্জিনগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কারণ এটি ওয়েব ব্যবহারকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূলত Authority এর অর্থ হল আপনার ওয়েবসাইটটি বিশ্বাসযোগ্য, শীর্ষ স্থানের, প্রাসঙ্গিক কিনা এবং অফার করার মতো কিছু রয়েছে কিনা তা যাচাই করা। আপনার ওয়েবসাইটটির ranking বৃদ্ধি পেলে সেটি আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
  • প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে থাকাঃ SEO এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটটি ফলাফলের পৃষ্ঠাগুলিতে শীর্ষে অবস্থান করার পাশাপাশি আপনি প্রতিযোগীদের থেকেও এগিয়ে থাকতে পারবেন । যদি কোনো প্রদত্ত ফলাফল পৃষ্ঠায় প্রথম ফলাফলটির ক্লিকের গড় ২২%, দ্বিতীয় ফলাফলটি ১৫% এবং তৃতীয়টি ১২% পায় তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটিতে ট্রাফিক বেশি হবে এবং টার্গেট কীওয়ার্ডগুলির জন্য আপনি বেশি আয় করতে পারবেন।

অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কৌশলঃ

অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কৌশল ২ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। কৌশলগুলো হলঃ

  • হোয়াইট হ্যাট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ হোয়াইট হ্যাট SEO বলতে এমন কৌশল এবং পদ্ধতিগুলি বোঝায় যা গ্রহণযোগ্য এবং গুগল ও অন্যান্য প্রধান অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলির দ্বারা নির্ধারিত বৈধ শর্তগুলি মেনে চলে।
  • ব্ল্যাক হ্যাট সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ এই কৌশলগুলি গুগল এবং প্রধান অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলির দ্বারা নির্ধারিত শর্তাবলী কঠোরভাবে লঙ্ঘন করে। ব্ল্যাক হ্যাট SEO তে জড়িত থাকার ফলে আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে।

 

SEO এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায় ?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আয়ের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের একটি বড় সমস্যা হল এটি অনেক সময় নেয়। আপনাকে niche খুঁজে বের করতে হবে, কীওয়ার্ডগুলি গবেষণা করতে হবে, একটি সাইট তৈরি করতে হবে, content লিখতে হবে, monetization করতে হবে, লিঙ্কগুলি পেতে হবে, এবং আরও অনেক কিছু। এছাড়াও, আপনাকে ranking এ আসতে অপেক্ষা করতে হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছর সময় নিতে পারে। তবে আপনি কীভাবে অনলাইনে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন থেকে অর্থোপার্জন করতে পারেন তার জন্য আজ আমি আপনাকে কিছু ধারণা দেবো।

১. গুগল অ্যাডসেন্সঃ

যদি আপনি ভাল আর্টিকেল তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বা ব্লগ লিখতে পারেন। ভাল কীওয়ার্ড রিসার্চ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি SEO এর মাধ্যমে গুগলের টপে আনতে পারলে আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর ট্রাফিক পাবেন। আবার আপনি আপানার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স জুড়ে দিতে পারেন। তাতে আপনার ওয়েবসাইটে জ ভিজিটর আসবে আপনার ওয়েবসাইটে গিয়ে গুগল অ্যাড দেখলেই আপনি তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। এভাবে আপনি আয় করতে পারেন।

২. ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রয়ঃ

আপনি আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আপনার কোম্পানির পণ্য বিক্রয় করতে পারেন। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটটিকে সঠিকভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের প্রথমে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি হবে। আপনার প্রোডাক্ট / সার্ভিস বেশি বিক্রি হবে এবং আপানার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বেশি হবার কারণে আপনি এক্সট্রা সুবিধা পাবেন।

৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অন্যের পণ্যের প্রমোট করা। অন্যের পণ্য নিজের ওয়েবসাইটে প্রমোট করে বিনিময়ে কমিশন নেওয়া। আপনার সাইটটি যদি সবার প্রথমে থাকে তাহলে আপনার সাইটে ভিজিটরের ক্লিকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনি আপনার টার্গেট কীওয়ার্ডগুলোকে যদি সঠিকভাবে SEO ব্যবহার করে প্রথমে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপনাকে আর পায় কে। আপনার প্রমোট করা পণ্য সবাই বেশি দেখবে এতে পণ্য কেনার সম্ভাবনাও বেশি থাকবে। আর আপনি যত বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন আপনি তত বেশি কমিশন পাবেন। তবে বলাটা যত সহজ মনে হচ্ছে কাজটা কিন্তু মোটেও এতোটা সহজ নয়। আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে সেই সাথে মেধারও প্রয়োজন রয়েছে।

৪. অনলাইন মার্কেটপ্লেসঃ আপনি যদি ফ্রিলান্সিং করতে আগ্রহী হন তবে আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে SEO এর গিগ খুলে ফ্রিলান্সিারদের দলে নাম লেখাতে পারেন। অনলাইনে প্রচুর মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন- Fiverr.com, Freelancer.com, Upwork, Odesk, People per hour ইত্যাদি। আপনি অনলাইনে কাজ করেও অনেক আয় করতে পারবেন।

৫. লোকাল মার্কেটঃ শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই নয় লোকাল মার্কেটেও SEO এর প্রচুর কাজ রয়েছে। লোকালভাবে আপনি কন্ট্রাক্টে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইটের মালিকদের SEO এর কাজ করে দিতে পারেন। দিন দিন SEO এর চাহিদা বাড়ছে সবাই এখন পণ্য/সার্ভিসের বিজ্ঞাপনের জন্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে তাই সবাই SEO এর গুরুত্ব বুঝতে পারছে।

আপনি আরও অনেক ভাবে SEO এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, যেমন –

  • SEO consultant
  • লোকাল বিজনেস
  • ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্ট বিল্ডিং ইত্যাদি।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ করার জন্য আগে ভালোভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখার প্রয়োজন। কাজ শেখার পরে আপনার এসব সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা তৈরি হবে। আপনি যখন কোন কাজে দক্ষ হয়ে উঠবেন আপনার পক্ষে কাজটি করা খুব সহজ হয়ে যায়। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত দক্ষতা অর্জন করে কোন কাজ করা।

আশা করি আপানারা আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হবেন।

আমরা আজ জেনেছিঃ

  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব
  • SEO এর মাধ্যমে কিভাবে আয় করা যায় ?

 

Leave a Reply