Home » Freelancing » কিভাবে একজন নারী অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারেন
অনলাইন থেকে উপার্জন

কিভাবে একজন নারী অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারেন

অনলাইন থেকে উপার্জন

আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বকে এতটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে যে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে ঘুমাতে যাওয়া অব্দি মানুষ প্রযুক্তির

উপর নির্ভরশীল। আমরা প্রত্যেকেই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির উপরে মানুষের নির্ভরশীলতা উপার্জনের

উপায় উন্মোচন করে দিয়েছে। ইন্টারনেটের জন্যই অনেকে অনলাইন থেকে উপার্জন করার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে

নারীরা এই ক্ষেত্রে বেশি উপকৃত হয়েছেন। অনেক মহিলা আছেন যারা নিজে কিছু করতে চান। কিন্তু পরিবারের চাপে পড়ে তারা

বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারছেন না। বিশেষ করে বিয়ের পরে মেয়েদের বাইরে গিয়ে কাজ করায় বেশি বাধা আসে। কিন্তু

ইন্টারনেটের বদৌলতে বাইরে না গিয়েও নারীরা উপার্জন করতে পারছেন। ইন্টারনেট নারীদের ঘরে বসে অনলাইনে অর্থোপার্জন

করার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ আলোচনা করব নারীরা কিভাবে অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারেন।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টঃ

আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন। অনলাইনে কাজ করার জন্য ফাইভার,

ফ্রিল্যান্সার ডটকম, আপওয়ার্ক, পিপল পার আওয়ারের মতো অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। আপনি এসব মার্কেটপ্লেসে ডাটাএন্ট্রি,

ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে আয় করতে পারেন। এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন

এবং অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিংঃ

অনলাইনে উপার্জনের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের অন্যতম ও ভালো উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। নারীদের ঘরে বসে উপার্জনের

জন্য ফ্রিল্যান্সিং বেস্ট উপায়। বিশ্বে অনেক নারী ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করছে। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে

কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ না করে চুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য জনপ্রিয় কিছু কাজ রয়েছে

যার মাধ্যমে অনেক অর্থ উপার্জন করা যায়। সবার প্রথমে আপনার জেনে রাখা দরকার ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার একটি

নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে। সেটা হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, হতে পারে ফটো এডিটিং, ওয়েব সাইট মেকিং, ওয়েব

ডিজাইনিং, কপি রাইটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, লোগো ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট

মার্কেটিং ইত্যাদি। আপনার যদি একাধিক দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে প্রথমে কাজ

পেতে একটু অসুবিধা হতে পারে। তবে কাজ করে ভালো রিভিউ পেলে আপনি অনেক কাজ পাবেন।

ব্লগিংঃ

ঘরে বসে আয় করার জন্য ব্লগিং একটি দুর্দান্ত উপায় হতে পারে। আপনি যদি লেখলেখি করতে ভালোবাসেন তবে আপনি বিভিন্ন

বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল লিখতে পারেন। কোনও নারীর ঘরে থেকে উপার্জন করা সহজ উপায় ব্লগিং। অনেক মহিলা ব্লগার

রয়েছেন, যারা ব্লগ লিখেই হাজার হাজার ডলার উপার্জন করছেন। একজন মহিলা হওয়ার কারণে, আপনি আপনার জ্ঞান এবং

আগ্রহের ভিত্তিতে একটি ব্লগ শুরু করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি রান্না, শিশুর যত্ন, বাড়ির যত্ন বা এই জাতীয় কোনো

ব্লগ শুরু করতে এবং বিজ্ঞাপন থেকে উপার্জন করতে পারেন। তবে এটি যতটা শোনাচ্ছে তত সহজ নয়, তবে আপনি একবার

ব্লগিং শুরু করলে বুঝতে পারবেন যে এটি কতটা সহজ।

ইউটিউবিংঃ

ইউটিউবের মাধ্যমে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ ইনকাম করছেন। আপনি ইউটিউবের মাধ্যমে ইনকাম করতে চাইলে

অবশ্যই ভালো কন্টেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। যদি আপনি ভালো কোন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি

ইনকাম করতে পারবেন। ইউটিউবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা যায়। কিন্তু যেসব নারীরা বাইরে গিয়ে কাজ করতে না পারার

কারণে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ঘরে বসে যেসব কন্টেন্ট তৈরি করা যায় এরকম কোন কিছু নিয়ে

কাজ করা উচিত। যেমন- রান্না বিষয়ক ভিডিও, হাণ্ডি ক্রাফট তৈরি করা, বিউটি টিপস, শিক্ষা বিষয়ক ইত্যাদি। আপনি যদি

ইউটিউবে প্রফেশনালভাবে কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে খুব ভালোভাবে ভিডিও বানাতে হবে। আপনার চ্যানেলে যদি

১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম হয় তাহলে চ্যানেলটিতে monetization করা যাবে। আর monetization করলে

চ্যানেল থেকে ইনকাম আসতে শুরু করবে।

বিভিন্ন প্রসাধনীর রিভিউ রাইটিংঃ

আরেকটি বিকল্প হল পণ্য পরীক্ষা করে রিভিউ লিখা। আপনি যদি প্রসাধনী, ত্বকের যত্নের পণ্য এবং এই জাতীয় পরীক্ষা করে

থাকেন তবে আপনি এই পণ্যগুলোর রিভিউ লিখে আপনি অর্থোপার্জন করতে পারেন। অন্যদিকে ওষুধের পণ্যগুলির পরীক্ষা করা

কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এর জন্য আপনি একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। তবে এটি না করাই ভাল।

ডাটাএন্ট্রিঃ

ডাটা এন্ট্রি একটি সাধারণ কাজ যা প্রাথমিক কম্পিউটার এবং দ্রুত এবং নির্ভুল টাইপিং দক্ষতা থাকলেই আপনি করতে পারবেন।

সাধারণত ডাটা এন্ট্রির কাজে ক্লায়েন্টদের জন্য ডাটা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে টাইপ করা খুবই জরুরী। অনেক নারীরা ডাটা এন্ট্রির

কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। আপনি নিম্নলিখিত ডাটা এন্ট্রির কাজগুলি করতে পারেন:

  • ডাটা এন্ট্রি
  • তথ্য বিশ্লেষণ
  • ডাটা মাইনিং
  • পিডিএফ থেকে ওয়ার্ড রূপান্তর
  • ওয়ার্ড থেকে পিডিএফ
  • ইমেল সংগ্রহ
  • ডাটা কপি পেস্ট করা
  • ছবি থেকে ওয়ার্ডে রূপান্তর করা
  • প্রোডাক্ট লিস্টিং করা ইত্যাদি।

অনুবাদ করার কাজঃ

আপনি যদি দ্বিভাষিক হয়ে থাকেন বা বিভিন্ন ভাষা জেনে থাকেন তবে আপনি উপার্জনের জন্য আপনার ভাষা দক্ষতা ব্যবহার

করতে পারেন। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনেকসময় অনুবাদ করার প্রয়োজন হয়, আপনি যদি এই ইন-ডিমান্ড

ল্যাঙ্গুয়েজগুলোর মধ্যে একটিতে সাবলীল হন, তবে অনুবাদ পরিষেবা সরবরাহ করে আপনি কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

অনুবাদ সংস্থা বা ফ্রিল্যান্স সাইটে যোগদান করে আপনি অনুবাদ কাজগুলি সন্ধান করতে পারেন।

অনলাইনে পণ্য বিক্রয়ঃ

অনলাইনে পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমেও নারীরা ঘরে বসে উপার্জন করতে পারে। আপনি অন্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে সুলভ মূল্যে

আরও কিছু সংখ্যক পণ্য কিনতে পারেন এবং এগুলি আরও বেশি দামে পুনরায় বিক্রয় করতে পারেন। অনেকে ফেসবুক পেজ ও

ফেসবুক লাইভে নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও পোশাক বিক্রি করে থাকে। আবার তারা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসও বিক্রি করে

থাকেন, যেমনঃ জুতা, ব্যাগ, রান্নার কাজে ব্যবহৃত জিনিস, কসমেটিকস ইত্যাদি।

ড্রপশিপিংঃ

ড্রপশিপিং অনলাইন ব্যবসায়ের অন্তর্গত একটি কাজ যার মাধ্যমে খুব সহজে আয় করা যায়। তবে তার আগে জেনে নেই

ড্রপশিপিং কি। ড্রপশিপিংকে আমরা খুচরা ব্যবসায়ও বলতে পারি। কোনও পণ্য স্টোর করে না রেখে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে

পণ্য ক্রয় করে সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রয় করাই হছে ড্রপশিপিং। মনে করুন আপনার এলাকায় কোন পণ্যের ফ্যাক্টরি আছে

আর বাজারে ঐ পণ্যটির খুচরা দাম ১০০০ টাকা। আপনি পণ্যটি একসাথে অনেকগুলো ৫০০ টাকা করে কিনে এনে অনলাইনের

মাধ্যমে ৯০০ টাকায় পণ্যটি বিক্রয় করলেন। এতে আপনার ৪০০ টাকা লাভ হল আবার আপনার কাছে পণ্যটির দাম কম হবার

কারণে আপনার কাছ থেকেই কিনবে। এটাই মূলত ড্রপশিপিং। এভাবে মেয়েরা বিভিন্নভাবে বাইরে না গিয়েই অনলাইন থেকে আয়

করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে সারা বিশ্বেই অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইনে অর্থ উপার্জনের অন্যতম একটি উপায়

হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং । সারা বিশ্বে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

করছে অনেকেই আস্তে আস্তে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের সংখ্যা বাড়ছে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক সহজ একটি কাজ কিন্তু

আগে এটা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। চলুন জেনে নেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি। আপনি আপনার ওয়েবসাইট বা

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অন্য কোনো কোম্পানির পণ্য বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়াই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। আপনি

আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দেওয়া হবে। আপনি যদি পণ্য বিক্রয় করতে না

পারেন তাও আপনি টাকা পাবেন কিন্তু খুবই অল্প।

বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ই-কমার্স সাইট রয়েছে এবং এদের মধ্যে অনেক সাইট সারা বিশ্বেই পন্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। এই ই-

কমার্স সাইটগুলোতে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সেকশন রয়েছে। আপনি সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের মেম্বার হয়ে যেতে

পারেন। আপনি যদি তাদের সাইটে অ্যাকাউন্ট খলেন আপনাকে একটি অ্যাফিলিয়েট লিংক দেওয়া হবে। যদি ওই লিঙ্কে ক্লিক

করে কেও পন্যটি কিনে তাহলে আপনি সেটার থেকে নির্দিষ্ট পরিমানের একটি কমিশন পাবেন। তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

করতে হলে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হবে । আপনার ওয়েবসাইট যাতে সবার কাছে পৌঁছে যায় তার জন্য

আপনি SEO করতে পারেন। আপনি বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারবেন। তাই নারীরা এই

কাজগুলো সহজেই করতে পারেন ।

বর্তমানে কিছু ই-কমার্স সাইট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যতম কিছু সাইট হচ্ছে –

  • আমাজন
  • আলিএক্সপ্রেস
  • দারাজ আরও অনেক গুলো ই-কমার্স মার্কেট অ্যাফিলিয়েশন করে থাকে।

আরও অনেকভাবে নারীরা অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে পারে। যেমন-

  • অনলাইন রিসেলিং
  • অনলাইন সার্ভে
  • অনলাইনে পড়িয়ে
  • ওয়েবসাইট ডিজাইনিং

শেষকথাঃ

বর্তমান অনলাইনের মাধ্যমে হাজার হাজার নারী পুরুষ আয় করছে। ঘরে বসে নিজেই নিজের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করার একমাত্র

উপায় হচ্ছে অনলাইন। বাংলাদেশের নারীরা ঘরের বাইরে না গিয়েই উপার্জন করার জন্য অনলাইনকে বেছে নিয়েছেন।

অনলাইনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে ব্যবসা সবই করা সম্ভব। আশাকরি যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে

আপনারা আর্টিকেলটি তে সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।